করবার্তা ডেস্ক: আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও আধুনিক করতে অনলাইন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি রিটার্ন দাখিলের সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিলের ক্ষেত্রে অনেক করদাতাই বিভিন্ন আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। আয়কর আইন, অর্থ আইন, সারচার্জ, উৎসে কর, অগ্রিম কর, টার্নওভার কর, আয়ের বিভিন্ন খাত, সম্পদ ও দায়ের বিবরণ এবং কর নির্ধারণের নিয়মসহ নানা বিষয় বুঝতে গিয়ে তাদের জটিলতার মুখে পড়তে হয়।
এ কারণে অনেক করদাতা রিটার্ন প্রস্তুতের জন্য পেশাজীবী বা অন্যের সহায়তা নেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু দালাল করদাতাদের কাছ থেকে অযৌক্তিক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। একই সঙ্গে ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ পরামর্শের কারণে কোনো কোনো করদাতা পরবর্তীতে আইনগত ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে পারেন।
বর্তমানে আয়কর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। অনলাইনে রিটার্ন দাখিল, করসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল করার মাধ্যমে করদাতাদের হয়রানি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে করদাতাদেরও রিটার্ন দাখিলের আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ম সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল আয়কর ব্যবস্থার সুফল নিশ্চিত করতে হলে শুধু অনলাইন ব্যবস্থা চালু করাই যথেষ্ট নয়। করদাতাদের সহজ ভাষায় আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে জানানো এবং দালালচক্রের অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর নজরদারিও প্রয়োজন।
এনবিআরের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগে আয়করসংক্রান্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে করদাতাদের নির্ভরতা ও হয়রানি দুটোই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।